ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন তিনি। সেখানে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্যেই অবশ্য ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং দেশটি একটি চুক্তি করতে চায়।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে পারে।
বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বৈঠকে অন্য আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতারাও যোগ দিতে পারেন।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বুধবারই প্রাথমিকভাবে বৈঠকের আমন্ত্রণ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
এদিকে বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সরাসরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তি করতে চায়। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষের দিকে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি, আমরা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ের দিকে রয়েছি’। নর্থ ক্যারোলিনায় অবতরণের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। এখন দেখা যাক, সেটি কীভাবে এগোয়।’
ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে—জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ট্রাম্প এসব মন্তব্য করলেন। এর আগে গত জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এতে বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ তৈরির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি চুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করে। এসব হামলায় সরকারি ভবন, সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
